আমি যদি মানুষ না হইতাম,
চৈত্রের দুপুরে উইড়া বেড়ানো শিমুলতুলার মতো
ভরদুপুরে তোমার বাড়ি যাইতাম।
অথচ আমি মানুষ,
তোমারে না পাওয়া দুপুরগুলাতে তোমার কাছে উইড়া যাইতে পারি না।
আমি যদি মানুষ না হইতাম,
চন্দ্রমল্লিকা ফুলের মতো ফুইটা থাকতাম তোমার বারান্দায়,
শেষ বিকেলের নিরবতায় আলতো করে ছুঁয়ে দিতে আমায়।
অথচ আমি মানুষ,
তোমার বারান্দায় আমার নামে বরাদ্দ কোনো জায়গা নাই।
আমি যদি মানুষ না হইতাম,
শরতের আকাশে সাদা সাদা মেঘ হয়ে কাশফুল এঁকে দিতাম,
তুমি আমাকে না পেয়ে ছুটে যেতে কাশফুলেদের কাছে।
"আমি নেই" এই একটা অনুভূতি ছুঁয়ে দিতো তোমায়।
অথচ আমি মানুষ,
চাইলেও তোমার হেঁটে চলা রাস্তার পাশে ঘাস হইতে পারি না।
Thursday, September 29, 2022
Sunday, September 25, 2022
পরিত্যাক্ত মানব
ঘোরের ভেতর যে বাতাসের সংঘর্ষে শীতল হয়ে উঠেছিলাম,
সেই শীতলতার লোভে বাতাসের পিছু ছুটতে ছুটতে
নিজেকে আবিষ্কার করি নিজের থেকে অনেক দূরে।
বিভ্রান্তিকর এই অনিশ্চিত পথ থেকে বেরিয়ে যেতে চেয়ে
নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি মাতাল শহরের কোনো পরিত্যাক্ত মদের বারে।
হারিয়ে যাওয়া নিজের অস্তিত্বের অভিশাপে—
এক বোতল হুইস্কি গোগ্রাসে খেয়ে ফেললো আমার শান্তিপূর্ণ হৃদয়।
ক্লান্ত শরীরে ভর করে আমার আহত আত্মা প্রবেশ করে প্রাণহীন শহরে।
যে শহরের পথ জানেনা তার শেষ ঠিকানা। সেই শহরে,
এক টুকরো শীতল বাতাসের খুঁজে আমি বিক্রি করলাম নিজের আত্মাকে।
এইসব শহুরে ভ্রান্ত অভিযোগ দূর হলে,
আমার শরীর ছুটে যাবে তোমার কাছে।
অবসাদমাখা আমার শরীর নতজানু হয়ে,
চেয়ে থাকবে তোমার শীতল চোখে।
তখন, তখন তোমার নরম হাতের স্পর্শে,
আমার শরীরে এনে দিও এক টুকরো হৃদয়।
Sunday, September 11, 2022
অসুখ হইলে আমার ইচ্ছা করে
অসুখ হইলে আমার ইচ্ছা করে, দরজা জানালা বন্ধ কইরা ঘরটারে আন্ধার বানাইয়া কাথা গায়ে দিয়া শুইয়া থাকি। শুইয়া শুইয়া জ্বরের সাথে মোলাকাত করতে করতে ঘোরের মধ্যে আমি মায়ের কোলটারে খুঁজতে থাকি। চিৎ হইয়া শুইয়া শুইয়া মনে করতে থাকি-, জ্বর হইলে যখন আমার মায় মাথায় পানি ঢালতো; তখন একফোটা পানি হুট কইরা চোখের মধ্যে ডুইকা পরার অনুভূতিটা। ঘোরের মধ্যে আমি টের পাই আমার শরীরের লোমগুলো পরাজিত সৈনিকের মতো কাবু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর আমি কাথাটারে আরো একটু আপন কইরা নিয়া গুটিশুটি হইয়া শুইয়া থাকি।
অসুখ হইলে আমার কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে।
আমি ছুঁইটা যাই আমার কলমের কাছে,
কলম আমারে প্রত্যাখ্যান করে।
অসুখ হইলে আমার ছুঁইটা যাইতে ইচ্ছা করে,
ঘাসফুলে শিশির জইমা থাকা পুরানা রাস্তায়;
এইসব নাগরিক জীবন আমারে গলা পেঁচাইয়া ধরে।
অসুখ হইলে আমার ইচ্ছা করে,
ইচ্ছা করে আমি পাখি হইয়া যাই;
ছোটবেলায় নিজে হাতে মাইরা ফালানো
টুনটুনির বাচ্চার অভিশাপে আমার আর পাখি হওয়া হইলো না।
অসুখ হইলে আমার অনেক অনেক অনেক কিছু ইচ্ছা করে। এইসব এইসব ইচ্ছাগুলো যখন আমারে ঘাড় ধাক্কা দিয়া দূরে সরাইয়া দেয়। তখন আমি ধরতে চাইলাম একজোড়া শীতল হাত। যেই হাতের শীতলতায় আমার জ্বরের শরীরের সব উষ্ণতা মেঘ হইয়া উইড়া যাইবো। অথচ, অথচ সেই হাত দুইখানও আমার কখনো ধরা হইলো না।
Subscribe to:
Comments (Atom)
অন্ধের অন্ধকার
বিষাদ দিনযাপনের ইতিহাস থাকুক শহর জুড়ে। ঘর থেকে বের হলেই যেন দেখতে পাই, নষ্ট হওয়া খাবারের গন্ধে কতটা উন্মাদ দাঁড় কাক। ঘৃণাভরা কোলাহল ভাঙলেই য...
-
ভেঙে যাওয়া তামাকের ধোঁয়া তবু পথ চিনে, আমার এ হৃদয় তবে কেন অন্ধকার প্রিয়! অন্য কারোর নয়; স্বয়ং আমার নিজের— বিশ্বাস ভুলে গেছে গোপন ইতিহাস, আত্...
-
বিষাদ দিনযাপনের ইতিহাস থাকুক শহর জুড়ে। ঘর থেকে বের হলেই যেন দেখতে পাই, নষ্ট হওয়া খাবারের গন্ধে কতটা উন্মাদ দাঁড় কাক। ঘৃণাভরা কোলাহল ভাঙলেই য...
-
শশ্মান আমার ভিটা না। তোমরা আমাকে ঘরহীন করায়, শশ্মানে ঠায় নিতে বাধ্য আমি। তোমরা কি অন্য কোথাও যেতে বলছো? রেলস্টেশন, সদরঘাট, ফুটওভারব্রীজ? সব...