Friday, May 27, 2022

কৃত্রিম মৃত্যু

পৃথিবীতে জন্মানোর দোষে,
যাবত জীবন কারাদণ্ড নিয়া পইরা আছি সংসারে।
মুক্তির জন্য প্রয়োজন মৃত্যু। কিংবা,
সংসার থাইকা আমৃত্যু পালায়া থাকা।

সংসারে গেলো বাইশটা বছর।
শিকড়ও তাই কম ছড়ায় নাই,
উপড়ায়া তুলতেও কলিজায় লাগে।
লাগে লাগুক, মৃত্যুতেও তো লাগে।

সব কিছু ছাইড়া ছুইড়া যাইবার আগে
কদম পাতায় ছাড়পত্র লিখলাম, "কৃত্রিম মৃত্যু"।
সংসারের মায়া শালার পৃথিবীর সমান;
তাইতো চিড়িয়া, সংসার কারাগারে যাবত জীবন ভোগে।

সংসার ছাড়লাম আষ্ট দিন হইলো,
ছিলাম বন্ধুদের ঠিকানায়, ঐটাও ছাড়লাম।
এখন আমি পরিপূর্ণ একা, নিঃসঙ্গ -উলঙ্গ গাছের মতো।
গাছের শরীরেও কি বীজের মায়া জাইগা থাকে?

সারাদিন পার্কে ঘুরলাম, পুরানা সব দৃশ্য দেখলাম।
পুরানা সব দৃশ্যের নতুন অর্থ খুঁইজা পাইলাম।
হকারের পণ্য আর শিশুদের ফুল বিক্রি এইবার
বেঞ্চে পইরা থাকা প্রেমের চেয়ে অর্থপূর্ণ লাগলো।

জীবনরে চাষাবাদ না কইরা, চাষাবাদ করি প্রেম।
প্রেম খুঁজি প্রেমিকার চোখে-ঠোঁটে-চূম্মনে,
প্রেম খুঁজি গোলাপের রঙে, কিংবা প্রেমিকের ঘামে।
অথচ প্রেম পইরা থাকে পৃথিবীর সমগ্র বিচ্ছেদে।

বেঞ্চে শুইয়া পাতাদের দুলনিতে আকাশ দেইখা ভাবি,
সংসারী না হইলে, কর্ম-হতাশার গল্প তৈরি হয় না।
বাঁইচা থাকার লাইগা, শুধু পৃথিবীটাই সংসার;
সুখে থাকার লাইগা, দুই বেলা ভাত জুটানোই কর্ম।

তারপর সন্ধ্যা নামে, ল্যাম্পপোস্টে প্রাণ আসে।
তখন পুলিশ ডাইকা কয়, "চইলা যান ভাই"।
কই যাইবো! আমার তো কোনো ঠিকানা নাই।
ঠিকানা বানাইলেই সংসার হইয়া যায়। 

No comments:

Post a Comment

অন্ধের অন্ধকার

বিষাদ দিনযাপনের ইতিহাস থাকুক শহর জুড়ে। ঘর থেকে বের হলেই যেন দেখতে পাই, নষ্ট হওয়া খাবারের গন্ধে কতটা উন্মাদ দাঁড় কাক। ঘৃণাভরা কোলাহল ভাঙলেই য...