Tuesday, March 29, 2022

আত্ন-অপ্রকাশ

পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর প্রজাপতি যদি জানতো,
সে বিশ্বের সমগ্র সৌন্দর্যকে ধারণ করে।
তাহলে নিজেকে লুকিয়ে রাখার অপরাধে,
অন্ধকারে বিসর্জন দিতো উড়ে বেড়ানোর আনন্দকে।
অথচ সে নিজের সৌন্দর্যকে জানে না বলেই,
সৌন্দর্যের লোভে ঘুরেফিরে অসুন্দরেও আনন্দে হাসে।

পৃথিবীর প্রতিটা মুহুর্ত নতুন করে জন্ম নেয়।
পৃথিবীর প্রতিটা হাসি নতুন করে জন্ম নেয়।
পৃথিবীর প্রতিটা প্রেম নতুন করে জন্ম নেয়।
নতুন করে জন্মায় না শুধু মানুষ, তবু
নতুন করে জন্ম নেয় মানুষের সবকিছু;
নতুন করে জন্ম নেয়, তোমার আমার--
ঠোঁটের কোণের হাসি, চোখের মিথ্যে পানি,
আমাদের যত ভুল ভালোবাসাবাসি,
প্রেমের মুখোশ পরে অপ্রেমের অনুভূতি।
গভীর অন্ধকারে পৃথিবীর চুম্বনে বুঝেছি,
নিজেরাই তো নিজেদের খুনী।

আমি বলি এইসব ভুলে চলো, একটুখানি বাঁচি
যেমন করে বেঁচে থাকে,
পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর প্রজাপতি।
যেমন করে বেঁচে থাকে,
সদ্য জন্মানো ছোট্ট শিশুটি। 

আমাদের চোখ

 পৃথিবীতে যতগুলো মানুষ আছে, ঠিক তার দিগুণ আছে মানুষের চোখ। আর তাই আমরা দৃশ্যের ভিতর দেখি মিথ্যের ছায়া, আর মানুষের ভিতর রোবট। পৃথিবীর ইতিহাসে আজীবন দৃশ্যমান বিষ্ময়কর হয়ে থাকবে এই মানুষের চোখ। কখনো আনন্দের প্রতীক হয়ে উঠে আমাদের চোখ, কখনও কালো মেঘ। কখনওবা ঘূর্ণিঝড়ের মতো চলতে থাকে জীবনের অনিশ্চিত সব হিসেব, কিংবা যুদ্ধ শেষে বিধ্বস্ত শহরের মতো হতাশার ক্লান্তি নিয়ে থমকে যায় আমাদের চোখ। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সিরিয়াল কিলারের চোখেও ভেসে উঠে প্রেমের চিহ্ন। কিংবা নিজের মাকে হত্যা করার পূর্ব মুহূর্তে যে চোখ ছিলো আগুনের মতো উত্তাপ, রক্তের মতো লাল; মাকে হত্যার করার পর সে চোখে নামে বৃষ্টি, নির্মল গ্রামের শেষ রাতের বৃষ্টি। কিংবা পৃথিবীর সবচেয়ে ভীতু প্রেমিকা, "লোকে জানবে" এই ভয়ে যার প্রেমটি এখনো হয়ে উঠেনি, যার চোখ সদ্য ফুটে উঠা ফুলের মতো লাজুক; সেই চোখও হয়ে যেতে পারে মরুভূমির মতো শুষ্ক।

আমাদের দৃশ্যমান চোখেরই যখন এতো রূপ। তখন, যে চোখ অদৃশ্য কিংবা যে চোখে ভর করে একজন অন্ধ মানুষ হেঁটে চলে; সেই চোখের না জানি কতরূপ! সেই চোখ যদি দেখা যেতো, তাহলে হয়তো আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতাম। মুগ্ধ হয়ে ভালোবেসে যেতাম একে অপরকে। কিংবা, আজীবন দূরে থাকতাম একে অপর থেকে। ভাগ্যিস আমাদের চোখ কারো অদৃশ্য চোখকে দেখতে পারে না।

বোবা প্রেমিক

তুমি উত্তাল চলমান নীরব স্রোতের এক চিরযৌবনা বহমান নদী। যে নদীতে সমুদ্রজয়ী প্রেম বিজয়ী নাবিকের নিষেধাজ্ঞা জারী। আমি তাই গাঙচিল হয়ে উড়ে যাই তোমার বক্ষরেখা বেয়ে। হঠাৎ দেখলাম একটা মাছরাঙা এসে তোমার শরীর ছুঁয়ে নিয়ে গেলো একটি প্রাণ, আমি কিচ্ছু বলিনি। এরপর দেখলাম, একগুচ্ছ কচুরিপানা ভেসে যাচ্ছে তোমার শরীর ছুঁয়ে, আমি কিচ্ছু বলিনি। তারপর দেখলাম, একটি কিশোরের দল লাফাচ্ছে তোমার শরীরে, আমি কিচ্ছু বলিনি। শেষমেশ যখন আমি উড়তে উড়তে ক্লান্ত ভীষণ, তখন দেখলাম তোমার সত্ত্বা মিশে যাচ্ছে সমুদ্রে। আমি কিচ্ছু বলিনি। শুধু তোমার থেকে চোখ সরিয়ে দেখি, আমি তোমার বক্ষ বেয়ে আসলেও আমার ছায়া ছিল শুষ্ক মাঠের কিনারা ঘেষে। আমি হতাশ হইনি। শুধু, শুধু সাগরের মাঝে তোমারে খুঁজতে গিয়ে– আমি তোমারে পাইনি।

পরিচয় বদল

ধরো, ত্রিশ বৎসর পর হঠাৎ একদিন
'পৃথিবীটা গোল' থিওরিতে আমাদের আবার দেখা হয়ে গেলো,
ততদিনে আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে যাবে।
আমার হাতের স্পর্শে তোমার যে শরীর এখন চঞ্চল হয়ে উঠে
তখন সে শরীর থুবড়ে যাবে বয়সের স্পর্শে। 
আমার ঠোঁটের স্পর্শে তোমার যে ঠোঁট আরো রক্তিম হয়ে যায়
তখন সে ঠোঁট রক্তজবার মতো লাল হবে সবুজ পানপাতায়।
এইযে এখন তুমি আমার যে হাতটি শক্ত করে ধরে আছো
ততদিনে এই হাত শক্ত করে ধরতে শিখে যাবে বুড়োদের লাঠি।
আজকাল যে ঘন কালো চুলে তুমি হাত বুলিয়ে দাও
ততদিনে এই চুল বকের ডানার মত সাদা হয়ে যাবে।

তখন আমায় চিনতে পারবে?
তোমার আজকের এই প্রেমিককে?
চিনতে পারবে আমার এই চোখ?
যেখানে তুমি তোমার সমুদ্দুর খুঁজে পাও
নাকি, ততদিনে আমাদের চোখে বসবাস করা
মোটা গ্লাসের চশমার অজুহাত দিবে?
সেদিন তোমার মনে পড়বে? আমাদের শেষ চুমুর কথা?
মনে পড়বে? শেষ কবে আমার জন্য কেঁদেছিলে?
নাকি ভুলে যাবে কি আমার নাম? কে আমি ছিলাম?

আমি একদিন প্রেমিক হবো

আমি একদিন প্রেমিক হবো,
পুরোনো ক্যাসেটের মতো আবেগ নিয়ে ভালোবেসে যাবো।
আমি একদিন প্রেমিক হবো,
এই লণ্ডভণ্ড শরীরে এলোমেলো চুল নিয়েই।
আমি একদিন প্রেমিক হবো,
পৃথিবীর সব বিষাদ মুছে দিয়ে তোমায় চুমু খাবো।

আমি একদিন ঠিক প্রেমিক হয়ে যাবো,
যেভাবে মাগরীবের আজানের সময় ঘরে ফিরে শৈশব।
যেভাবে শীতের ভোরে ঘাসেরা করে স্নান।
যেভাবে মানুষের হৃদপিণ্ড হুট করে থেমে যায়।
যেভাবে কেঁদে উঠে সদ্য জন্মানো শিশুটি।

অপ্রেমিকের কবিতা

আমি একটি কবিতা লিখতে চাইলাম, 
তারপর দেখতে দেখতে একটি বছর কেটে গেল। 
আমি ঘোরের মাঝে একটি লাইন-ই আওড়াতে থাকলাম,
"তুমি আমায় ভালোবেসেছিলে- কোনো এক চাঁদহীন রাতে"। 
তারপর আমার ক্লান্ত মগজ বিশ্রাম নেয়,
ভরা আমাবস্যার নক্ষত্রদের দিকে তাকিয়ে
কোনো সবুজ ঘাসের মাঠে, শীতল বাতাসে।
আমার অপ্রেমিক হৃদয় নেশায় বোধ হয়ে থাকে
ভরা পূর্ণিমায় নদীর বুকে, যেনো তার
একহাতে হুইস্কির বোতল, অন্যহাতে প্রেমিকার শেষ চিঠি।
তারপর ক্যালেন্ডারের পর ক্যালেন্ডার বদলায়,
আমার আর প্রেমিক হয়ে উঠা হয় না,
আমার আর কবিতা লেখা হলো না।

আমার কবিতা সেই একটি লাইনেই আটকে রইল,
তারপর কেটে গেলো আরো একুশটি বছর।

নববধুর জবানবন্দি

একদিন আমি নদীকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
কখনো কাউকে ভালোবেসেছো?
নদী বললো,
আমাকে ছাঁয়া দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা
সারিসারি গাছগুলোকে ভালোবেসেছিলাম,
কিন্তু আমার ভাগ্য আমাকে প্রবাহিত করেছে প্রতিনিয়ত।
এখন আমি আকাশ ভালোবাসি,
ইচ্ছে হলেও তার সীমানার বাইরে যেতে পারি না।

একদিন আমি বৃষ্টিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
কখনো কাউকে ভালোবেসেছো?
বৃষ্টি বললো,
যখন আমি মেঘ ছিলাম,
আমার সাথী হয়ে উড়ে চলা মেঘকে ভালোবেসেছিলাম
কিন্তু আমার ভাগ্য আমাকে ঝরিয়ে দিয়েছে।
এখন আমি পাতাল ভালোবাসি,
আমার বসবাস এখন এখানেই স্থায়ী।

একদিন আমি গাছকে জিজ্ঞেস করেছিলাম,
কখনো কাউকে ভালোবেসেছো?
গাছ বললো,
ক্লান্ত দেহ নিয়ে ডানা ঝাপটে
যে পাখি বাসা করেছিল আমার ডালে
তারে আমি ভালোবেসেছিলাম।
বৈশাখের কোনো এক শেষ রাত্তিরে
সে ডাল ভেঙে গেছে উত্তর অনিলে।
এখন আমি জমিন ভালোবাসি,
যেখানে আমার অস্তিত্ব স্থায়ী।

Monday, March 28, 2022

আমাদের প্রতিবিম্ব

আমি শেষরাতে একটা কবিতা লিখে
পরদিন সন্ধ্যায় তোমার হাতে দিলাম,
তুমি অস্ফুটে স্বরে বললে উঠলে,
ওমা! কবিতা কোথায়? এতো দুঃখ।

তুমি আসবে বলে সেদিন বিকেলে,
একমুঠো ঘাসফুল ছিড়ে, চুড়ি বানালাম।
ভালোবেসে পরিয়ে দিলাম তোমার হাতে।
তুমি বিস্মিত হাসিতে ছুঁয়ে দেখলে, আর বললে,
তুমি না ঘাসফুল খুব ভালোবাসো? তাহলে ছিড়লে কেনো?
 
আমি তোমার উনিশতম জন্মদিনে দিয়েছিলাম,
একজোড়া কবুতরের আজন্ম মুক্তি।
তুমি অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে বললে,
ওমা! আমাকে দিলে কোথায়? সেতো উড়িয়েছো।

হৃদয়ের বসতবাড়ি

শরীরতত্ত্বের ডাক্তারেরা কি বলতে পারবে?
হৃদয়ের বসতবাড়ি কোথায়?
শরীর থেকে কতদূর?
আত্নার সাথে তার কি অমিল?
হৃদপিণ্ডের খুব কাছে?
ডাক্তারেরা বলবে, মগজের হাইপোথ্যালামাসে।
বিশ্বাস করো প্রিয়তমা, ওসব ভুল কথা
আমার তো বুকের ঠিক ঐখানটাই ব্যথা,
যেইখানে তুমি কান পেতে শুনতে চাইতে, "ভালবাসি কিনা!"

প্রাক্তন

মেলাদিন পরে আবার আমার মনে পড়লো,

আমি তোমারে ভালবাসতাম!

মেলাদিন পরে আবার আমার মনে পড়লো,

তোমারে কাছে ডাকতাম, পাশে চাইতাম।

তোমার গলার একটা গান শোনার লাইগা

মাঝরাইতে কেমনে হাসাইতাম।

তুমি কি এখন মাঝরাইতে গান গাও না?

রাইতের খাবারের কথা ভুইলা যাও না?

বিকাল সন্ধ্যায় বাসা থাইকা বাইর হইলে,

তোমার বাসার সামনের গলির মোড়ে

আমারে খুঁজো না?

নাকি তোমার মতোন,

তোমার বাসাটারেও বদলাইয়া ফালাইছো!


মেলাদিন পরে এখনও আমার মাঝেমধ্যে অসুখ হয়

জ্বর মাপার উছিলায় এখন কি আর তোমার

আমার কপাল ছুঁইতে ইচ্ছা করে না?

বেলপুরির বাহানায় গলির মোড় ঘুড়াইয়া

এখন কি আর রাস্তা বাড়াইতে মন চায়না?

"আমি শুনেছি সেদিন তুমি" গানটা হুনলে,

আমার কথা মনে পড়ে না?

নাকি গানটাই আর হুনো না, গাও না?

দ্যাহো আমিও কেমন বদলাইয়া গেছি,

“বিদ্রোহ আর চুমুর দিব্যি”-তে তোমারে চাইনা।

অথচ দ্যাহো,

তোমার রবীন্দ্রনাথ বদলায় নাই

আমার জীবনানন্দ দাশও বদলায় নাই

তোমার নীল আসমান বদলায় নাই

আমার রাইতের আন্ধারও বদলায় নাই

তোমার মতোন,

তোমার ভেজা চুলের গন্ধটাও কি বদলায়া গ্যাছে?


মেলাদিন পরে এখনও আমার কাছে,

"প্রেমিকা" শব্দটার চেয়ে তোমার নামটা প্রিয়।

তোমার দেওয়া আমার ডাকনামটা কি ভুইলা গেছো?

নাকি অন্য কাউরে দিয়া দিছো?

আচ্ছা, মানুষ বদলায়া ভালোবাসান যায়?

ভালো যদি বারবার বহুজনরে বাসা যায়

তাইলে আমরা তারে ভালোবাসা বলি ক্যান?

আমি জানি ভালোবাসা হইলো তোমার মতন,

যার কোন বিকল্প নাই, অন্যত্র নাই।


আচ্ছা, তুমি এহন যেই শহরে থাহো,

সেই শহরে কেউ বকুল কুড়ায়া আনে?

তুমি এহন যেই রাত্তিরে জাগো,

সেই রাত্তিরে কেউ গান শোনার আবদার করে?

আজকাল যখন ঘুমায়া থাকো,

তোমার ঘুম জড়ানো কণ্ঠ শোনার লাইগা ফোন আসে?

বিকালের আসমানে মেঘ করলে,

বৃষ্টির প্রার্থনা নিয়া কেউ রাস্তায় দাড়ায়া থাকে?


অথচ আমি জানি,

আমি তোমারে ভালবাসি না

এম্নে কি ভালোবাসান যায়?

অবশিষ্ট প্রেম

আমার এক চোখ ফেটে রক্ত ঝরছে,
অন্য চোখ শীতল- প্রেমিকা হাসে।
আমার এক কান উত্তপ্ত হয়ে আছে যন্ত্রণায়,
অন্য কানে প্রেমিকার কণ্ঠ 'ভালবাসি ভালবাসি'।
আমার এক নাসারন্ধ্রে জ্বরের উত্তাপ,
অন্য নাসারন্ধ্রে প্রেমিকার ঘন শ্বাস।
আমার মুখগহ্বর মরুভূমির মতো তৃষ্ণার্ত,
ঠোঁটে লেগে আছে প্রেমিকার ঠোঁটজোড়া।
আমার বুকের ডানপাশে ফুসফুস ভরে গেছে নিকোটিনে,
অন্যপাশে প্রাণ জেগে আছে প্রেমিকার ভালবাসায়।
আমার শরীর শুকিয়ে গেছে প্রেমহীনতায়,
আমার মন বেঁচে আছে প্রাক্তনের ভালবাসায়।

অপ্রেমিকের আত্নপ্রকাশ

আমি সেই প্রেমিক,
যাকে আশির্বাদ করেছিলো পৃথিবীর কাল বিজয়ী বিচ্ছেদেরা।
আমি সেই প্রেমিক,
যাকে নতজানু হয়ে সম্মান করেছিলো পৃথিবীর সমগ্র বিরহ।
আমি সেই প্রেমিক,
যাকে দেখা মাত্র সুখের কসাই গেয়ে উঠতো আনন্দের গান।

আমি সেই মহাপুরুষ,
যে পাজরের ভেতর হৃদয় নয়, হৃদপিণ্ড বহন করে।
আমি সেই মহাপুরুষ,
যে রক্তে-মাংসে গড়ে উঠে, নিজের কঙ্কালে ভর করে চলে।
আমি সেই মহাপুরুষ,
যে মগজে বেঁচে থাকার স্বপ্ন নিয়ে, মৃত্যুর দিকে ছুটে চলে।

আমি সেই হৃদয়বান,
যার জন্য কান্না করতে শিখেছে পাহাড়, নাম দিয়েছি তার ঝর্ণা।
আমি সেই হৃদয়বান,
যার শরীরে চামড়ার চেয়েও কাছে মিশে আছে - আত্নঘৃণা।
আমি সেই হৃদয়বান,
যার জন্য মায়ের বুকের ভেতর বয়ে চলে নরকের সুখ।

কর্পোরেট প্রেমের জন্ম

আমি একটি বোমার গাছ লাগিয়েছিলাম,
যত্ন করে প্রতি সন্ধ্যায় মদ ডালতাম গাছের গোড়ায়।
সিগারেটের ছাইকে ছিটিতে দিতাম প্রতিটি শাখা-প্রশাখায়।
হাজার বছর চাষাবাদের পর গাছে একটু ফুল ফুটলো,
পৃথিবীর শেষ প্রেমিক এসে ফুলটি ছিড়ে নিয়ে
তার প্রেমিকাকে উপহার দিয়ে বললো, "ভালোবাসি"।
পৃথিবীর শেষ প্রেমিকা ফুলের নাম দিলো 'গোলাপ'।
তারপর ফুলটি বিস্ফোরিত হয়ে ধ্বংস হয়ে গেলো পৃথিবীর প্রেম।
এরপর থেকে আমরা প্রেমকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য,
সকলেই হয়ে গেছি কর্পোরেট প্রেমিক-প্রেমিকা।

মানুষ এবং মানুষ

কখনো নিজের দিকে তাকানোর সাহস হয় নি বলে,
আজীবন তাকিয়ে ছিলাম আকাশের দিকে- কিংবা,
যারা তাকিয়ে থাকে নিজেদের দিকে।

আকাশের দিকে তাকিয়ে আমি জানতে পেরেছি,
মূলত আকাশ বলে কিচ্ছু নেই।
যতদূর চোখ যায়, ঠিক তার ঠিকানায়
যে নীল রঙ দৃশ্য আঁকে, তা শুধু অন্ধদের প্রাচীর।

যেসকল মানুষ নিজেদের দিকে তাকিয়ে থাকে,
তাদের থেকে আমি শিখেছি,
অন্যদের থেকে শেখার কিছু নেই।
জীবন হলো তথাকথিত আকাশের চেয়েও বিশাল,
এখানেও মেঘেদের মতো খেলা করে ঝাপসানো স্বপ্ন।

এরপর যখন আমি,
অন্ধকার থেকে বেরিয়ে নিজের দিকে তাকালাম-
নিঃসঙ্গ চাঁদের মতো উলঙ্গ এক শরীর দেখতে পেলাম।
যার কপালে খুদাই করে লেখা আছে "আত্নঘৃণা"।

তারপর আমি ভালোবাসার উদ্দেশ্যে,
মানুষের ভীড়ে ডুকলাম, দেখতে পেলাম-
মরিচিকার পোশাক পরে তাকিয়ে আছে আকাশে।
চোখ ঝলসে গেছে সূর্যের উত্তাপে। তবু,
"ভালোবাসা পাইনি বলে, ভালোবাসা দেইনি" সমীকরণে,
একে অপরকে চোখে চশমা দিয়ে দেখছে।
শরীর থেকে শরীরের দূরত্ব ক্রমাগত কমছে,
হৃদয় থেকে হৃদয়ের দূরত্ব ক্রমাগত বাড়ছে।

এতো সভ্য জনতার ভীড়ে আমি এক উলঙ্গ নিঃসঙ্গ মানব।
যার চোখ এখনো নির্মল আর্দ্র, চশমাতে অনভ্যস্ত।
যে চায় সহশ্র মানুষের ভীড়ে নিজের দিকে তাকিয়ে থাকতে।
যে চায় ভালোবেসে হৃদয় থেকে হৃদয়ের দূরত্ব কমিয়ে নিতে।

Wednesday, July 21, 2021

ধ্বংস হোক পৃথিবীর সকল উন্নত জীবনধারা

কনডমের জমুক পাহাড়,
তবু অমানুষের জন্ম না হোক।
বন্ধ হয়ে যাক পৃথিবীর সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,
তবু অহংকারের পতন হোক।
ধ্বংস হয়ে যাক শহরের সব উঁচু নিচু দালান,
তবু ব্যবধানের পরাজয় হোক।
মানুষের সৌন্দর্য হোক বায়বীয়,
তবু নিষ্ক্রিয় হোক দেহের গড়ন-রঙ।
গ্রামে-বন্দরে পতিতাবৃত্তি শুরু হোক,
তবু বন্ধ হোক এ মিথ্যে প্রেমের অভিনয়।
মানুষের মৃত্যু হোক অকালে,
তবু বয়সের অবহেলা দূর হোক।
মানুষ হোক পশুদের মতো,
সবকিছু ভুলে মনে রাখুক ভালোবাসা।

অন্ধের অন্ধকার

বিষাদ দিনযাপনের ইতিহাস থাকুক শহর জুড়ে। ঘর থেকে বের হলেই যেন দেখতে পাই, নষ্ট হওয়া খাবারের গন্ধে কতটা উন্মাদ দাঁড় কাক। ঘৃণাভরা কোলাহল ভাঙলেই য...