Sunday, March 19, 2023

আত্মপরিচয়

আমি পৃথিবীর প্রথম পুরুষের মতো হতাশ।
আমি পৃথিবীর শেষ পুরুষের মতো লোভী।
আমি বকুলের মতো হার মেনে যাওয়া কাপুরুষ।
আমি সূর্যমুখীর মতো যুদ্ধ করে যাওয়া মহাবীর।

আমি জীবনানন্দের সেই প্রেম,
"ছুটি লয়ে চ’লে যায় মন!"
আমি নজরুলের সেই বিদ্রোহী,
"জাহান্নামের আগুনে বসিয়া হাসি পুষ্পের হাসি!"

আমি ফ্রেডির মতো চিৎকার করে গেয়ে উঠি,
"Mama, I don't want to die,
I sometimes wish I'd never been born at all."
আমি পিংক ফ্লয়েডের সুরে কেঁদে উঠি,
"The child is grown, the dream is gone
I have become comfortably numb"
আমি জন লেননের মতো শান্তি চেয়ে বলি,
"Imagine there's no countries, it isn't hard to do
Nothing to kill or die for, and no religion too
Imagine all the people living life in peace"
আমি লালনের মতো গলা ছেড়ে গাই,
"কে বলে মানুষ মরে,
ও মানুষ মরলে পরে বিচার হবে কার গো?"

আমি নবজাতকের মতো অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি,
আমি মৃত্যুর শিয়রে বসে হাহাকারে হয়ে যাই নির্বাক।
আমি ঝড়ের মতো আতঙ্ক এনে দিই নিজের বুকে,
আমি মৃদু বৃষ্টির মতো সুখের দমকা হাওয়া ছড়াই।
আমি যুদ্ধের ময়দানে জলন্ত বারুদের মতো হিংস্র,
আমি ফজরের আজানে জেগে উঠা এক ভীরু।

Friday, March 17, 2023

যেভাবে বেঁচে থাকি আমরা

আমাদের ভোর হয়, সূর্য ওঠে
আমরা জেগে উঠি, সতেজ হই।
চোখে জল দিই, স্নান করি।
আমরা বেরিয়ে পরি, দূরে যাই—
ইস্কুল, কলেজ, খেত, খামার, অফিস
দূরে, আরোও দূরে—
পৃথিবীর অন্ধকারে মিশে যাই সূর্যের যৌবনে।

আমরা ক্লান্ত হই, উদাস হই
গোধুলি রঙের অবসাদে শান্ত থাকি।
আমরা ব্যস্ত হই, ঘরে ফিরি
জীবনের সব ভুল হিসেবের ফাঁকে একটু হাসি।
আমরা ভালোবাসি, কথা বলি
রাতের অন্ধকারে সুখের আলো খুঁজি।

আমরা মূলত হতাশ, আমরা ব্যর্থ
নিজেদের বিক্রি করে দেওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বাণিজ্য নেই।
তারপর, নিজেদের বিক্রি করা টাকায় বাজার করি, তিন বেলা ভাত খাই।
কিংবা, মাতাল হয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। 

Thursday, March 9, 2023

দুঃখের হাস্যধ্বনি

এই ধুলো ধুলো শহর, ধুলোর মতো হৃদয়ে জমে থাকা সব ক্ষত, শহুরে মানুষ, প্রেমিক-প্রেমিকা কিংবা প্রাক্তন, জীবনের অবসাদে থমকে যাওয়া আমাদের সুখ, অবাক করে দিয়ে হেসে ওঠা আমাদের দুঃখ, কর্কশ হর্ণ বাজিয়ে যাওয়া ট্রাফিক জ্যাম, ব্যবহারযোগ্যবিহীন ফুটপাতে ছুটে চলা মানুষের ভীড়, সিগারেট ফুকতে থাকা বেকারের জীবন, হতাশার নদীতে ডুবে যাওয়া একটা মস্তিষ্ক, ক্ষুদার্ত পেট নিয়ে হেঁটে যাওয়া শূন্য মানিব্যাগ এবং পৃথিবীর সকল বিরহ আমাকে ভালোবেসেছিলো বহুবছর আগের কোনো এক চৈত্রের মধ্যদুপুরে। যেই দুপুরে আমি নিঃসঙ্গ কুকুরের মতো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকতাম কোন উদাস পাখির শুষ্ক চোখের কালোতে। 

বৈশাখের ঝড়ে কুড়িয়ে পাওয়া আমের হিসাব কষার মত জীবনের যে কয়টি বছর শিমুল ফুলের মতো ঝরে গেলো, অবসাদমাখা ক্লান্তিকর হতাশা ছাড়া কিবা উপহার দিয়েছি তাকে? শৈশবের শিলাবৃষ্টিতে কুড়িয়ে পাওয়া বরফের মতো কিছু সুখ জমিয়েছিলাম বুকপকেটে। দু’দণ্ড স্বস্থির নিশ্বাস ফেলে টের পাই সুখের বরফ গলে ঝরছে আত্মঘৃণার জলপ্রপাত।

যে সুখের সাথে বনিবনা হয়নি আমার বাবার, সেই সুখকে খুন করেছি নিজ হাতে। যে শান্তির সাথে দেখা হয়নি আমার মায়ের, সেই শান্তিকে প্রত্যাখ্যান করেছি বহুবার। যে দুঃখকে খুব আদরে পুষেছিলো আমার বাবা মা, সেই দুঃখ সয়ং আমি নিজেই। আয়নায় তাকালে সেই দুঃখ ভেসে উঠে বলে ভেঙে ফেলেছি সেই অন্ধকারের আয়না। আত্মার বেচাকেনা হয় না বলে আজও বাঁচিয়ে রেখেছি বাবা মার দুঃখকে। নিঃসন্দেহে আমি একজন সার্থক প্রতারক। যে কিনা নিজের মায়ের স্বপ্ন বিক্রি করে দিয়েছে কোনো এক তাসের ঘরে।

Monday, February 20, 2023

আধুনিক বাংলাচর্চা

“ডু ইউ নো, গেটিং দ্যা বেঙ্গলি ল্যাঙ্গুয়েজ উই হ্যাড টু পে অ্যা লট অফ ব্লাড এন্ড স্যাক্রিফাইজ?” 
গুরুগম্ভীর কণ্ঠে বয়ান ছাড়িয়া বাবুমশাই চুরুটে দিলেন টান।
গিন্নি তখন উদাস হইয়া কহেন “কস্ট অফ ব্লাড, কস্ট অফ ব্লাড”।

বাবুর ছেলে অনেক ছোট, স্যান্ডার্ড-থ্রিতে উঠিয়াছে মাত্র,
তবু বুঝিলো বিষয় মর্মান্ত, শিখিয়া নিলো দুটি শব্দ – “ল্যাঙ্গুয়েজ ডে”।
হেডফোন খুলিয়া মেয়ে বলে “আর ইউ টকিং এবাউট নাইনটিন ফিফটিটু?”

বাবুমশাই তখন গেলেন ক্ষ্যাপিয়া;
এতো বড় দামড়া মেয়ে, 
তবু জানে না ভাষা দিবস নিয়ে!
মেয়ে বলে “সরি পাপা, আই জাস্ট ফরগট অ্যা লিটল বিট”।

পরদিন – ফেব্রুয়ারীর একুশ তারিখ,
পরিবারের সবাই মিলিয়া, জুতোজুড়ো ঘরে রাখিয়া
একগুচ্ছ ফুল বাঁধাই করিয়া, ছুটিয়া চলিলো দলবল নিয়া।
বুলবুলিতে ফুল ফুটাইয়া, গাইছে তারা মিলিয়া-মিশিয়া
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী”।

Sunday, December 25, 2022

হিমুকরণ - ০১

অজ্ঞাতনামা একটা ছেলে ঢাকায় প্রবেশ করে। সে নিজেকে শুধু আড়াল করতে চায়। তাই নিজের মাঝে একটা অন্য মানুষ তৈরি করবে সে। অন্য মানুষ, অন্য নাম, অন্য অঙ্গভঙ্গি, অন্য সাজ, অন্য সবকিছু। আপাতত ঢাকায় একটা মেসে উঠে কোন এক নাম দিয়ে চালিয়ে দিছে। তারপর মেসে, মেসের-বাইরে মানুষজন পরিচিত হয়। এক সিগারেট দূরত্বে এক মেসে একজন বন্ধু ছিল উচ্চতর গাজাঁখুর, দিনে পাঁচ বেলা গাঁজা খাওয়া লোক।

একদিন অজ্ঞাতনামা যুবকটি উচ্চতর গাঁজাখুরের থেকে দুই টান উচ্চতর গাঁজা খেয়ে নিজের মেসে ফিরতেছিলো। মেসের সামনে এসে মনে হলো রাস্তায় হাঁটছে প্রচণ্ড ভালো লাগছে। পিছু ফিরে দোকান থেকে একটা চকলেট কিনে হাঁটতে লাগলো। চকলেট শেষ হলে পরপর দুই প্যাকেট চানাচুর খেতে খেতে আরও হাঁটতে লাগলো। এভাবে ঘোরের ভেতর হাঁটতে হাঁটতে মেসের গেইট অফ করে দেওয়ার সময় হয়ে গেলো। সে আরও হাঁটতে লাগলো। অনেক হেঁটে মেসে ফিরে মেস মালিককে ডেকে গেইট খুলে বাসায় ডুকে। হেঁটে হেঁটে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে তার মনে হল হিমালয়ের মতো পর্বত বেয়ে উঠছে। সে ভাবছে এই হিমালয়টা পর্বতটাকে কেটে ছোটো করে ফেলা যায় কিনা। হঠাৎ মাথায় প্রশ্ন আসলো, হিমালয় কেটে ছোটো করে ফেললে কি হবে? সে নিজেই বলে উঠলো "হিমু"। এবং পরক্ষণেই খেয়াল করলো, হিমালয় থেকে হিমু; নিজেকে অন্য করে ফেলার ব্যাপার। ভালো লেগে গেলো। এবং নিজের অজ্ঞাতনামা ক্যারেক্টারকে একটা নাম দিলো, "হিমালয় হিমু"। যেই নামের ভেতর আছে নিজেকে বদলিয়ে ফেলার আহ্বান।

গাঁজা খেয়ে রাতে হাঁটার বিষয়টা হিমালয় সাহেবের চরম ভালো লেগে গেলো। ঘোরের মাঝে সবকিছু কেমন যেন অন্যরকম লাগে। তাই প্রায়ই গাঁজা খেয়ে মেসে ফিরতে দেরি করে। এজন্য মেস মালিক বা ম্যানেজাররা অনেক ঝামেলা করে। এবং কয়েক মাস পরপর মেস বদলাতে হয়। 

(আপাতত আর টাইপ করতে ইচ্ছা করতেছে না। হিমু আমারও খুব প্রিয় ক্যারেক্টার। কিন্তু একটা সুস্থ মানুষ কিভাবে এমন আজব কাজকাম করতে পারে এটা ভেবে ভেবে এতটুকু কল্পনা করলাম। "গাঁজা খাওয়া ছাড়া একটা মানুষ এমন অদ্ভুত হতে পারে", এই কথাটা আমার লজিককে হার মানাতে পারছে না। তাই আমার লজিকের দিকে মনোযোগ দিয়ে দৃশ্য আঁকল্যাম জাস্ট।)

Thursday, September 29, 2022

অথচ আমি মানুষ - দুই

আমি যদি মানুষ না হইতাম,
চৈত্রের দুপুরে উইড়া বেড়ানো শিমুলতুলার মতো
ভরদুপুরে তোমার বাড়ি যাইতাম।
অথচ আমি মানুষ,
তোমারে না পাওয়া দুপুরগুলাতে তোমার কাছে উইড়া যাইতে পারি না।

আমি যদি মানুষ না হইতাম,
চন্দ্রমল্লিকা ফুলের মতো ফুইটা থাকতাম তোমার বারান্দায়,
শেষ বিকেলের নিরবতায় আলতো করে ছুঁয়ে দিতে আমায়।
অথচ আমি মানুষ,
তোমার বারান্দায় আমার নামে বরাদ্দ কোনো জায়গা নাই।

আমি যদি মানুষ না হইতাম,
শরতের আকাশে সাদা সাদা মেঘ হয়ে কাশফুল এঁকে দিতাম,
তুমি আমাকে না পেয়ে ছুটে যেতে কাশফুলেদের কাছে।
"আমি নেই" এই একটা অনুভূতি ছুঁয়ে দিতো তোমায়।
অথচ আমি মানুষ,
চাইলেও তোমার হেঁটে চলা রাস্তার পাশে ঘাস হইতে পারি না।

Sunday, September 25, 2022

পরিত্যাক্ত মানব

ঘোরের ভেতর যে বাতাসের সংঘর্ষে শীতল হয়ে উঠেছিলাম,
সেই শীতলতার লোভে বাতাসের পিছু ছুটতে ছুটতে
নিজেকে আবিষ্কার করি নিজের থেকে অনেক দূরে।
বিভ্রান্তিকর এই অনিশ্চিত পথ থেকে বেরিয়ে যেতে চেয়ে
নিজেকে হারিয়ে ফেলেছি মাতাল শহরের কোনো পরিত্যাক্ত মদের বারে।
হারিয়ে যাওয়া নিজের অস্তিত্বের অভিশাপে—
এক বোতল হুইস্কি গোগ্রাসে খেয়ে ফেললো আমার শান্তিপূর্ণ হৃদয়।
ক্লান্ত শরীরে ভর করে আমার আহত আত্মা প্রবেশ করে প্রাণহীন শহরে।
যে শহরের পথ জানেনা তার শেষ ঠিকানা। সেই শহরে,
এক টুকরো শীতল বাতাসের খুঁজে আমি বিক্রি করলাম নিজের আত্মাকে।
 
এইসব শহুরে ভ্রান্ত অভিযোগ দূর হলে,
আমার শরীর ছুটে যাবে তোমার কাছে।
অবসাদমাখা আমার শরীর নতজানু হয়ে,
চেয়ে থাকবে তোমার শীতল চোখে।
তখন, তখন তোমার নরম হাতের স্পর্শে,
আমার শরীরে এনে দিও এক টুকরো হৃদয়।

Sunday, September 11, 2022

অসুখ হইলে আমার ইচ্ছা করে

অসুখ হইলে আমার ইচ্ছা করে, দরজা জানালা বন্ধ কইরা ঘরটারে আন্ধার বানাইয়া কাথা গায়ে দিয়া শুইয়া থাকি। শুইয়া শুইয়া জ্বরের সাথে মোলাকাত করতে করতে ঘোরের মধ্যে আমি মায়ের কোলটারে খুঁজতে থাকি। চিৎ হইয়া শুইয়া শুইয়া মনে করতে থাকি-, জ্বর হইলে যখন আমার  মায় মাথায় পানি ঢালতো; তখন একফোটা পানি হুট কইরা চোখের মধ্যে ডুইকা পরার অনুভূতিটা। ঘোরের মধ্যে আমি টের পাই আমার শরীরের লোমগুলো পরাজিত সৈনিকের মতো কাবু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর আমি কাথাটারে আরো একটু আপন কইরা নিয়া গুটিশুটি হইয়া শুইয়া থাকি।

অসুখ হইলে আমার কবিতা লিখতে ইচ্ছে করে।
আমি ছুঁইটা যাই আমার কলমের কাছে,
কলম আমারে প্রত্যাখ্যান করে।
অসুখ হইলে আমার ছুঁইটা যাইতে ইচ্ছা করে,
ঘাসফুলে শিশির জইমা থাকা পুরানা রাস্তায়;
এইসব নাগরিক জীবন আমারে গলা পেঁচাইয়া ধরে।
অসুখ হইলে আমার ইচ্ছা করে,
ইচ্ছা করে আমি পাখি হইয়া যাই;
ছোটবেলায় নিজে হাতে মাইরা ফালানো
টুনটুনির বাচ্চার অভিশাপে আমার আর পাখি হওয়া হইলো না।

অসুখ হইলে আমার অনেক অনেক অনেক কিছু ইচ্ছা করে। এইসব এইসব ইচ্ছাগুলো যখন আমারে ঘাড় ধাক্কা দিয়া দূরে সরাইয়া দেয়। তখন আমি ধরতে চাইলাম একজোড়া শীতল হাত। যেই হাতের শীতলতায় আমার জ্বরের শরীরের সব উষ্ণতা মেঘ হইয়া উইড়া যাইবো। অথচ, অথচ সেই হাত দুইখানও আমার কখনো ধরা হইলো না।

Thursday, August 25, 2022

When a blind man cries

When a blind man cries,
Lord, only Lord knows
How much pain there is.

When a lost soul dies,
No one wants to know
Why someone is dying.

When a broken heart imagine,
He knows, only he knows
Nothing became the truth again.

Ahh life, only life, a struggle life knows
How many ways there are to be depressed.
Ohh love, only love, true love knows
How to burn life and soul carefully.

Thursday, July 7, 2022

Comfortably Numb - Pink Floyd

Comfortably Numb - Pink Floyd

হ্যালো—, হ্যালো
কেউ আছো এইহানে?
শুনতাছো? একটু খালি আওয়াজ দেও।
কেউ আছো ঘরে?
একটু বাইর হইয়া আসো,
শুনলাম তুমি মন খারাপ কইরা আছো।
আইচ্ছা, আমি তোমার কষ্ট মুইছা দিমু।
তোমারে আগের মত সহজ কইরা দিমু।
বসো,
তোমার দুঃখ বুঝার লাইগা,
আগে কিছু কথা কইয়া লও,,
তুমি কি দেখাইতে পারবা,
ঠিক কোনখানে দুঃখটা তোমার?

মুইছা যাওয়ার মত কোনো দুঃখ না এইটা,
দূরের জাহাজ থাইকা উইড়া যাওয়ার ধোয়ার মত
আপনি শুধু বাতাসে ভাইসা আইছেন।
আপনার ঠোঁট ঠিকই নড়তাছে,
কিন্তু আমি কিছু শুনতাছি না।
আমি যখন ছোট ছিলাম, আমার একডা অসুখ ছিলো,
আমার হাত দুইডা ছিলো, বেলুনের মতো নরম।
সেই মনের অসুখটা এখনও আমার মাঝেমধ্যেই হয়।
আমি না পারমু আপনারে বুঝাইতে,
না পারবেন আপনি আমারে বুঝতে।
দেইখা মনে হইলেও, আমি আসলে এতো সুখী না।
আমি, আমি শুধু এইটারে অভ্যাস বানাইয়া ফালাইছি।

আচ্ছা—,
যদি শুধু হালকা হওয়ার লাইগে একটুখানি কইতা,
একটু খালি উসফাস লাগতো। কিন্তু,
একটুখানি চেষ্টা কইরা দেহো।
আমি কইতাছি তুমি সুখী হবা।
তোমারে দৃশ্যের মতো রাস্তা দেখায়া দিবো,
বাইর হইয়া আহো, সময় তো চইলাই যায়।

মুইছা যাওয়ার মত কোনো দুঃখ না এইটা,
দূরের জাহাজ থাইকা উইড়া যাওয়ার ধোয়ার মত
আপনি শুধু বাতাসে ভাইসা আইছেন।
আপনার ঠোঁট ঠিকই নড়তাছে,
কিন্তু আমি কিছু শুনতাছি না।
আমি যখন ছোট ছিলাম,
একটা অবসাদবিহীন নির্মল অনুভূতি ছিলো।
ভাবনার আড়ালে মাঝেমধ্যেই চোক্ষে ভাসে।
চোখ খুইলা দেখতে গেলেই হারায়া যায়।
আমি আর হাত বাড়াইয়া ধরতে পারি না।
ছোট্ট বাচ্চাডা বড় হইয়া গেছে,
তার স্বপ্নটাও হারায়া গেছে।
আমি, আমি শুধু এইটারে অভ্যাস বানাইয়া ফালাইছি।

Sunday, June 5, 2022

অথচ আমি মানুষ - এক

আমি যদি ঘাস হতাম,
সকালের শিশিরে নিজেকে ভিজিয়ে তৃষ্ণা মিটাতাম;
কিংবা, নরম বাতাসে চোখ মেলে আকাশ দেখতাম।

আমি যদি প্রজাপতি হতাম,
গাছের পাতার মতো ডানা ঝাপটে উড়ে যেতাম বিলের ধারে;
কিংবা, মিশে যেতাম এক ঝাঁক ফড়িংয়ের মাঝে।

আমি যদি জোনাকপোকা হতাম,
সন্ধ্যের পরে খেলা করতাম শিশুদের সাথে;
কিংবা, নদীর উপর নাচতে নাচতে প্রতিবিম্ব দেখতাম নিজের।

আমি যদি দুঃখ হতাম,
চলে যেতাম বহুদূরে, যতদূর গেলে অভিকর্ষ পারবে না ফিরাতে;
কিংবা, ঝাপ দিতাম আগুনে; আগুনে কি দুঃখ পুড়ে?

আমি যদি সুখ হতাম,
ছড়িয়ে যেতাম পৃথিবীর সকল হৃদয়ে;
কিংবা, মিশে যেতাম বৃষ্টির সাথে।

Friday, May 27, 2022

আমি যেইখানে জন্মাইছিলাম

 আমি যেইখানে জন্মাইছিলাম, সেইখানে ভোর হইলে মোরগ ডাকতো। গাছের ডালে দল বাইন্ধা পাখিরা কিচিরমিচির করতো। উঠোন ঝাড়ু দেওয়ার আগে সেইখানে আমার পায়ের ছাপ পরতো। মাঠের ঘাসে জইমা থাকা শিশিরে আমার পা দুইখান গোসল করতো। দুই হাত দিয়া তুইলা নেওয়া শিশির দিয়া মুখ ধুইলে আমার পরাণ জুড়াইতো। বকুলতলায় তাজা বকুলের ঘ্রাণ পাওয়া যাইতো। ঘরের দেয়ালে সেই বকুল মালা হইয়া ঝুইলা থাকতো। শীতের দিনে ভাতভাজি আর গরমের দিনের পান্তাভাত আমারে তৃপ্তি দিতো। আমার মায় চুলায় ভাত উঠানোর পর, উঠোনের পাশের আম গাছটাতে ইষ্টিকুটুম গান গাইতো।

আমি যেইখানে জন্মাইছিলাম, সেইখানে লোডশেডিং ছিলো। ভরদুপুরে পুকুরপাড়ে দক্ষিণা বাতাস আইতো। ফ্রিজ না থাকলেও, নানানরকম গাছের টাটকা ফল ছিলো। দল বাইন্ধা ছুটাছুটি করার মত পোলাইপান ছিলো। লাফালাফি করার মতো নদী ছিলো, পুকুর ছিলো।

আমি যেইখানে জন্মাইছিলাম, সেইখানে বিকেল হইলে দল বাইন্ধা মাঠে খেলা হইতো। কানামাছি, গোল্লাছুট, হাডুডু, জুতাচুর, চোর-পুলিশ থেইকা শুরু কইরা ক্রিকেট, ফুটবল, লুডু; নানান রকম খেলা। শিশু-কিশোরের শরীরে বিকেলের ধুলো জমতো, মায়ের বকুনি শুনতো, মাইর খাইতো। শেষমেশ মাগরিবের আজানে ঘরে ফিরতো। হারিকেন জ্বালায়া পড়তে বসতো।

আমি যেইখানে জন্মাইছিলাম, সেইখানে দিনের বেলায় ফড়িং উড়তো। আর রাইতে জোনাক পোকার আলো জ্বলতো। সেই আলো মশারীর ভিতর পোষ মানতো। রাতের অন্ধকারে গাছের শীতল বাতাস বইতো। সেই বাতাসে ছোট বড় সবাই গল্প করতো। হাত পাখায় নানান রকম দৃশ্য ছিলো। সেই দৃশ্য ধীরে ধীরে দুলতো। ঘুমের সময় টিনের চালে বৃষ্টির শব্দ ছিলো।

অথচ আমরা সভ্যতা আর আধুনিকতার লোভে পইরা আমাদের জন্মের স্থান বেইচা দিছি একদল কষাইয়ের কাছে। কষাইয়েরা হাজার বোল্ডের ইলেকট্রিসিটি দিয়া আমার ছেলেবেলার জোনাকপোকাদের মাইরা ফালাইছে। আমাদের হাত থেইকা কাইড়া নিছে হাতপাখা। একটা স্মার্টফোন দিয়া জবাই করছে আমাদের ছেলেবেলা। "পড়ালেখা" নামের হাতুড়ি দিয়া পিষাইয়া ফেলছে আমাদের ছেলেমানুষী আত্মা। এইসবের পর, আমি যেইখানে জন্মাইছিলাম, সেইখানে কেউ কোনো শিশুরে জন্ম দিতে পারবো?

কৃত্রিম মৃত্যু

পৃথিবীতে জন্মানোর দোষে,
যাবত জীবন কারাদণ্ড নিয়া পইরা আছি সংসারে।
মুক্তির জন্য প্রয়োজন মৃত্যু। কিংবা,
সংসার থাইকা আমৃত্যু পালায়া থাকা।

সংসারে গেলো বাইশটা বছর।
শিকড়ও তাই কম ছড়ায় নাই,
উপড়ায়া তুলতেও কলিজায় লাগে।
লাগে লাগুক, মৃত্যুতেও তো লাগে।

সব কিছু ছাইড়া ছুইড়া যাইবার আগে
কদম পাতায় ছাড়পত্র লিখলাম, "কৃত্রিম মৃত্যু"।
সংসারের মায়া শালার পৃথিবীর সমান;
তাইতো চিড়িয়া, সংসার কারাগারে যাবত জীবন ভোগে।

সংসার ছাড়লাম আষ্ট দিন হইলো,
ছিলাম বন্ধুদের ঠিকানায়, ঐটাও ছাড়লাম।
এখন আমি পরিপূর্ণ একা, নিঃসঙ্গ -উলঙ্গ গাছের মতো।
গাছের শরীরেও কি বীজের মায়া জাইগা থাকে?

সারাদিন পার্কে ঘুরলাম, পুরানা সব দৃশ্য দেখলাম।
পুরানা সব দৃশ্যের নতুন অর্থ খুঁইজা পাইলাম।
হকারের পণ্য আর শিশুদের ফুল বিক্রি এইবার
বেঞ্চে পইরা থাকা প্রেমের চেয়ে অর্থপূর্ণ লাগলো।

জীবনরে চাষাবাদ না কইরা, চাষাবাদ করি প্রেম।
প্রেম খুঁজি প্রেমিকার চোখে-ঠোঁটে-চূম্মনে,
প্রেম খুঁজি গোলাপের রঙে, কিংবা প্রেমিকের ঘামে।
অথচ প্রেম পইরা থাকে পৃথিবীর সমগ্র বিচ্ছেদে।

বেঞ্চে শুইয়া পাতাদের দুলনিতে আকাশ দেইখা ভাবি,
সংসারী না হইলে, কর্ম-হতাশার গল্প তৈরি হয় না।
বাঁইচা থাকার লাইগা, শুধু পৃথিবীটাই সংসার;
সুখে থাকার লাইগা, দুই বেলা ভাত জুটানোই কর্ম।

তারপর সন্ধ্যা নামে, ল্যাম্পপোস্টে প্রাণ আসে।
তখন পুলিশ ডাইকা কয়, "চইলা যান ভাই"।
কই যাইবো! আমার তো কোনো ঠিকানা নাই।
ঠিকানা বানাইলেই সংসার হইয়া যায়। 

Sunday, May 22, 2022

প্রত্যাবর্তন

 আমার পিছনে বিশাল বড় বালুচর। বালুচরের পরে গহীন অরণ্য। বড় বড় সবুজ গাছ ছাড়া আর কিচ্ছু দেখা যায় না। শু শু কইরা বাতাসের সাথে উইড়া আসে নানান রকম পাখির আওয়াজ। বাতাসের বেগে মাঝেমধ্যে সাদা বালুগুলা ছুটাছুটি করে।

আমার সামনে চিৎ হইয়া পইরা আছে সতেরো বছর বয়সী কোন সুদর্শনা তরুণীর মতো সুন্দর এক নদী। নয়া যৌবনের মতো নিরব ঢেউ নদীর সারা শরীরে বইয়া যাইতেছে। তার উপ্রে দিয়া ভাইসা যাইতেছে সবুজ কচুরিপানা; যেমন ভাইসা থাকে তরুণীর ঠোঁটের কোণে একটা তিল। বিশাল প্রস্থ নিয়া পইরা থাকা এই নদীর ঐপাশে ইয়া বড় খোলা মাঠ। যেন মাঠের পরে আসমান-জমিনের মিলন ছাড়া আর কিচ্ছু নাই।

আমি নদীতে পা চুবাইয়া বালুর উপ্রে বইসা আছি। পা দুইটা নাড়াইয়া পানির মধ্যে ছলাৎ ছলাৎ শব্দ তুলতেছি। ছোট ছোট ঢেউ আইসা আমার হাঁটু পর্যন্ত ভিজাইয়া যায়। আমি উদাসীন চোক্ষে আসমানে তাকাই, মাথা নামাইয়া নদীরে দেখি, চোখ দুইটা ছাইড়া দিয়া জমিনের শেষ সীমানা খুঁজি। হুট কইরা নদীতে ঠোঁট লাগাইয়া মাছ ধইরা নিয়া যাওয়া মাছরাঙার রঙ দেখি। পাখনা দুইটা মেইলা দিয়া উইড়া বেড়ানো চিল দেখি।

বালুচরের পিছনে যে গহীন অরণ্য, তার ঐপাশে নাগরিক জীবন। উন্নয়নশীল কোন দেশের মফস্বল নয়; টেমস নদীর পাশে বাইড়া উঠা লন্ডনের মতো কোন উচ্চবিলাসী শহর। রাস্তায় ট্রাফিক নাই, ট্রাফিকের ভিড়ে ফুল বিক্রি করা শিশুরা নাই, ফুটপাতে হকার বা মানুষের কোলাহল নাই। শুধু আছে বড় বড় দালান আর সারি সারি ল্যাম্পপোস্ট। এইরকম একটা দালানের মধ্যে আছে "taste your soul" নামের এক বিলাসী মদের বার।

গোধূলীর আলোয় আমি বালুচর ধরে হাঁটতে হাঁটতে অরণ্য ছাইড়া প্রবেশ করি সভ্যতার শহরে। বোহেমিয়ান পায়ে হাঁইটা হাঁইটা আমি পৌঁছে যাই সেই মদের বারে।

পুরো বার জুড়ে নানান রঙের বাতি। প্রতিটা টেবিলে রাখা আছে এস্ট্রে আর লাইটার। নিচু ভলিউমে বাজছে ক্লাসিক্যাল মিউজিক। মিউজিকের ব্যাকগ্রাউন্ডে মানুষের কথোপকথন। দেইখা মনে হইতেছে না এখানে একদল মাতাল নেষায় বোধ হইয়া আছে।

রোবটের মতো এক বারম্যান আইসা চকচকে গ্লাস, বরফ আর হুইস্কি রাইখা গেলো আমার টেবিলে। গ্লাসের ভিতর হুইস্কি ঢাইলা, দুই টুকরা বরফ ছাইড়া দিয়া আমি পেগ বানাইলাম। এক পেগ, দুই পেগ করতে করতে যখন আমি পুরো বোতল শেষ করলাম। তখন আমার মনে পড়লো, এই বারের নাম “taste your soul”। আমি তখন নিজেকে জানার জন্য বের হইয়া পড়লাম শহরের রাজপথে।

নিজের আত্মার সাথে কথা কইয়া আমি জানতে পারলাম, সে আসলে শহুরে জীবন চায় না। আমি তখন বেরিয়ে পড়লাম আমার পুরানা ঠিকানার খুঁজে। গহীন অরণ্যের পথ ধরে তরুণীর মতো চিরযৌবনা নদীর তীরে।

ফেরার পথে অরণ্যের গাছেরা আমারে জিজ্ঞেস করে, গাছের পাখিরা আমারে জিজ্ঞেস করে, বালুর উপর বইয়া যাওয়া বাতাস আমারে জিজ্ঞেস করে, নদীপাড় ধরে ছুটাছুটি করা মাছরাঙা আমারে জিজ্ঞেস করে, আমারে শান্তি দেওয়া নদী আমাকে জিজ্ঞেস করে- “কিসের লোভে কই গেছিলা? কিসের অভাবে আবার পালাইয়া আইলা?” আমি শুধু নির্বাক চোখে সব দেখতে থাকলাম। এই মুহুর্তে আমি নিজের আত্মা স্পর্শ করলাম।

Tuesday, May 10, 2022

আবার যদি পৃথিবীতে ফিরা আইতাম

এই জীবনের পরে যদি আরো একটা জীবন এই পৃথিবীতে পাইতাম, তাইলে অনেক দূরের কোনো গ্রামে ভিটা বানাইতাম। যেই গ্রামের পাশ দিয়া বইয়া গেছে ঢেউ ছাড়া কোনো নদি। যেই গ্রামের মধ্যে তালগাছের মতো খাড়ায়া আছে ছোট বড় পাহাড়। বৃষ্টির দিনে আমি দাঁত কাঁপাইতে কাঁপাইতে উইঠা যাইতাম সবচেয়ে বড় পাহাড়টার মাথায়। সেইখান থাইকা কান পাইতা শুনতাম, ঘর ভাইঙা যাওয়া পাখিদের কান্দোনের চিৎকার। এক দৃষ্টিতে তাকায়া দেখতাম, গাছের পাতার মধ্যে বৃষ্টির একফোটা পানি ঝুইলা থাকতে চাইয়াও কেম্নে হুট কইরা পইরা যায়। তারপর পিছলায়া পিছলায়া পাহাড় থাইকা নামতে নামতে নদিতে যাইতাম। নদির মধ্যে ডুব দিয়া শুনতাম, খই ভাজনের মতো বৃষ্টির ফোটার শব্দ। নদির মইধ্যে গা ভাসাইয়া আসমানের দিকে তাকাইয়া দেখতাম, বৃষ্টির ফোটারা কেমন দল বাইন্ধা নাইমা আসে।

ঘুটঘুটে আন্ধার রাইতে খোলা মাঠে যাইতাম। যেইখানে বিলের পানিতে ভাইসা থাকা পদ্মফুল, আঁকাবাঁকা রাস্তার কিনারা ঘেইষা নানান রকম ঘাসের পাশ দিয়া দোলতে থাকা কাঁশফুল আর ইয়া বড় সবুজ ঘাসের মাঠের সব সৌন্দর্য ডাইকা যায় আন্ধারের পর্দায়। সেইখান থাইকা জোঁনাকপোকার রঙিন আলোর খেলা দেখতাম। পাখির কিচির-মিচির আর বাতাসের শু-শু আওয়াজ এক হইয়া আন্ধারের মইধ্যে একটা ঢেউ তুলতো। যেই ঢেউয়ের ধাক্কায় আমি ঘোরের মধ্যে পইরা যাইতাম। তারপর উপরের দিক তাকাইয়া দেখতাম, আসমানের রঙটাও পিচাশের মতো কালা; জোঁনাকপোকার মতো জ্বলতে থাকা তারাগুলা শুধু এইটা বুঝতে দিতো না। 

আর ভরা জ্যোৎস্নার রাইতে নদির মাঝখানে যাইয়া ছোট্ট একটা নৌকার উপর চিৎ হইয়া শুইয়া থাকতাম। আর ভাবতাম, নদিটার কি আজীবন এইভাবে চিৎ হইয়া শুইয়া থাকতে বিরক্ত লাগে না? সারাটা জীবন উপর দিয়া সাদা মেঘরে উড়তে দেইখা নদিটার কি ইচ্ছা করে না একটুখানি উড়াল দিতে? নৌকায় দোলতে দোলতে আরো অনেক কিছু ভাবতাম। ভাবতে ভাবতে মনের সুখে জ্যোৎস্নার দিকে দুই একটা কথা ছুইড়া দিতাম। জ্যোৎস্না তখন লজ্জা পাইয়া মেঘের আড়ালে লোকায়া যাইতো। আর আমি সেই আন্ধারে ধীরে ধীরে ঘুমায়া যাইতাম। শুধু কানের মধ্যে বাজতে থাকতো নৌকা আর পানির ধাক্কার চিকন চিকন শব্দ; ঘুমের ঘোরে আমার তখন মনে হইবো, বেহেস্ত থাইকা কোনো হূর নুপুর পায়ে পানির উপর দিয়া হাঁইটা হাঁইটা আমার দিকে আইতাছে।

আমি যদি মরণের পর আরেকবার পৃথিবীতে ফিরা আইতাম, তাইলে মানুষ থাইকা অনেক দূরে পালায়া যাইতাম। যতদূর পালায়া গেলে নিজের সুখ মাপার লাইগা অন্যের সুখের দিকে তাকাইতে হইতো না। যতদূর পালায়া গেলে অর্থের কাছে নিজেরে বেইচা দেওয়া লাগতো না। যতদূর পালায়া গেলে ইস্কুলের রোল নম্বর আমারে আলাদা করতো না। ততদূর যাইয়া, ঠিক ততদূর যাইয়া চিৎকার কইরা পৃথিবীরে জিগাইতাম, "কে কারে ভালোবাসে? কে নিজেরে ভালোবাসে?"। আমি জানি, পৃথিবী বৃষ্টি নামায়া কানতো, আর বর্জপাতের মতো চিৎকার কইরা কইতো, "কেউ কাউরে ভালোবাসে না, কেউ নিজেরে ভালোবাসে না"।

অন্ধের অন্ধকার

বিষাদ দিনযাপনের ইতিহাস থাকুক শহর জুড়ে। ঘর থেকে বের হলেই যেন দেখতে পাই, নষ্ট হওয়া খাবারের গন্ধে কতটা উন্মাদ দাঁড় কাক। ঘৃণাভরা কোলাহল ভাঙলেই য...